থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে মাদকবিরোধী ৫টি মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ হাজার ২৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা।
এ ছাড়া জিডির ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১০ বোতল ভারতীয় মদ। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মাদকসংক্রান্ত অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সীমান্তপথে চোরাচালান ঠেকাতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ৪টি চোরাচালান মামলায় আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসব অভিযানে ১৫০টি মাঝারি আকারের কম্বল, ৫৫ প্যাকেট OREO বিস্কুট, ৪ হাজার ৩৪১টি ভারতীয় শাড়ি, একটি বড় ট্রাক, ৫০ ঘনফুট বালু, একটি ভারতীয় Yamaha মোটরসাইকেল এবং ৩টি ষাঁড়ের বাছুর জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব চোরাচালানি পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৬৪ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা।
মাদক ও চোরাচালান দুই খাত মিলিয়ে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৬ হাজার ১০০ টাকা।
এ ছাড়া জিডির ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে একটি SLR (Self Loading Rifle) এবং একটি মরিচা ধরা পুরোনো পিন/লিভারও উদ্ধার করেছে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ বলছে, সীমান্তবর্তী হওয়ায় জৈন্তাপুরে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সীমান্তপথ, সন্দেহজনক চলাচল, পরিবহন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জৈন্তাপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। সীমান্তকে ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ দমনে অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, নিয়মিতভাবেই এ কার্যক্রম চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “জৈন্তাপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের পাশাপাশি অপরাধে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
থানা পুলিশের দাবি, চলমান এ তৎপরতার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।